ঈমানের বাক্যঃ

পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে ইমান বা বিশ্বাসের ক্ষেত্রে দুটি বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে নির্দেশ করা হয়েছে, যাকে বলাহয় কালিমাতুশ শাহাদাহ। এ কালিমার প্রথম বিষয় হচ্ছে, ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য বা মাবুদ নেই।’

দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে,  ‘আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।’

বিভিন্ন হাদিসে এই দুটি বিষয় একাধিক রূপে বর্ণিত হয়েছে।
তবে মূল আলোচ্য এই দুটিই। উল্লিখিত দুটি বিষয়ের ওপর সাক্ষ্য দিয়ে সাহাবিদের ইসলাম গ্রহণ করার বর্ণনা বিভিন্ন হাদিসে পাওয়া যায়।
(বুখারি, হাদিস: ১/১৭৬, ৩/১২১১; মুসলিম, হাদিস: ১/৩০২, ৩/১৩৮৬; নাসাঈ, হাদিস: ১/১০৯।)

সেই ধারাবাহিকতায় আজও নতুনভাবে কেউ ইসলাম গ্রহণ করতে আগ্রহী হলে, তাকে কালিমাতুশ শাহাদাহ পাঠ করানো হয়।
এ ছাড়া ইমান বা বিশ্বাসের পরিচায়ক হিসেবে কালিমায়ে তাইয়্যেবা নামে আরও একটি কালিমার ব্যবহার রয়েছে। সেখানেও তওহিদ বা একত্ববাদ এবং রিসালাত বা নবুওয়াত সাক্ষ্য বিদ্যমান।

তবে শুধু এই কালিমা মুখে পাঠ করার নাম ইমান নয়।

এ কালেমা দুটোর মূল বিষয়বস্তুকে অন্তরে বিশ্বাস করতে হবে, মুখে স্বীকার করতে হবে এবং আমলে বাস্তবায়ন করতে হবে।

একজন মুমিন-মুসলমানের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবাদ সম্পদ ইমান। কারণ, ইমানহীন আমল বা কাজ মূল্যহীন বা নিষ্ফল। (সুরা মায়িদা, আয়াত: ৫)

ইমানের বিপরীত হলো কুফর বা শিরক। ইমানের স্তর ও পরিচয় নিয়ে পবিত্র কোরআন ও হাদিসে বিভিন্ন আলোচনা রয়েছে। ভালো ও নেক কাজে ইমান বাড়ে এবং পাপ ও খারাপ কাজে ইমান কমে। সে কারণে প্রত্যেক মুমিন-মুসলমানের প্রধান দায়িত্ব হলো ইমানের প্রতি যত্নবান হওয়া।