Islam is not only religion but also complete code of life.
The word “Islam” means,
“Submission to the will of God.”
Followers of Islam are called Muslims. Muslims are monotheistic and worship one, all-knowing God, who in Arabic is known as Allah. Followers of Islam aim to live a life of complete submission to Allah.
ইসলাম আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থঃ
১) অনুগত হওয়া,
২) আনুগত্য করা,
৩) আত্মসর্ম্পণ করা,
৪) শান্তির পথে চলা
৫) মুসলমান হওয়া।
শরীয়াতের পরিভাষায়,
الاسلام هو بما جاء به النبي صلى الله عليه وسلم
ইসলাম বলা হয় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা কিছু নিয়ে এসেছেন অর্থাৎ শরীয়ত তথা কোরআন ও সুন্নাহ।
ফোকাহায়ে কেরামের মতে, আল্লার বিধি বিধান এবং রাসুল সঃ এর তরিকা মেনে চলার নাম হচ্ছে ইসলাম।
মুহাদ্দিসিনে কেরামের মতে, ইসলাম হলো আল্লাহর অনুগত হওয়া, আনুগত্য করা ও আল্লাহর নিকট পূর্ণ আত্মসমর্পণ করা।
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হল ইসলাম কি?
উত্তরে তিনি বললেন, قال رسول الله صلى الله عليه وسلم شهدت ان لا اله الا الله وان محمد رسول الله وايقام الصلاه وايتاء الزكاه والحج
অর্থাৎ ইসলাম হল এ সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোন মাবুদ নাই মোহাম্মদ সাঃ আল্লাহর রাসূল, নামাজ কায়েম করা, রোজা রাখা, যাকাত আদায় করা, হজ্ব পালন করা। (মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিসে জিব্রাইল )
যিনি ইসলামের বিধান অনুসারে জীবন যাপন করেন তিনি হলেন মুসলিম বা মুসলমান।
আল্লাহ পাক বলেছেন- “ইসলামই আল্লাহর একমাত্র মনোনীত ধর্ম।” [সূরাঃ আলে ইমরান-৩-১১]
দুনিয়ার যত রকম ধর্ম রয়েছে তার প্রত্যেকটির নামকরণ হয়েছে কোন বিশেষ ব্যক্তির নামে। অথবা যে জাতির মধ্যে তার জন্ম হয়েছে তার নামে। যেমন-ঈসায়ী ধর্মের নাম রাখা হয়েছে তার প্রচারক হযরত ঈসা (আ.)-এর নামে। বৌদ্ধ ধর্মের নাম রাখা হয়েছে তার প্রচারক হযরত ঈসা (আ.)-এর নামে। বৌদ্ধ ধর্মের নাম রাখা হয়েছে মহাত্মা বুদ্ধের নামে। জবদশতি ধর্মের নামও হয়েছে তেমনি তার প্রতিষ্ঠাতা জরদশতের নামে। আবার ইয়াহুদী ধর্ম জন্ম নিয়েছিল ইয়াহুদা নামে বিশেষ গোষ্ঠীর মধ্যে। দুনিয়ায় আরো যেসব ধর্ম রয়েছে, তাদেরও নামকরণ হয়েছে এমনিভাবে। অবশ্য নামের দিক থেকে ইসলামে রয়েছে একটি অসাধারণ বৈশিষ্ট্য। কোন বিশেষ ব্যক্তি বা জাতির সাথে তার নামের সংযোগ নেই; বরং ইসলাম শব্দটির অর্থের মধ্যে আমরা একটি বিশেষগুণের পরিচয় পাই সেই গুণের প্রকাশ পাচ্ছে এ নামে।
আল্লাহ পাক বলেছেন,
ومن يبتغي غير الاسلام دينا فلن يقبل منه
অর্থাৎ ‘কেউ ইসলাম ছাড়া অন্য কোন দ্বীন বা ধর্ম বা আদর্শ গ্রহণ করতে চাইলে তা কখনো কবুল করা হবে না।’ (আল ইমরানঃ ৮৫)
হযরত ইব্রাহীম (আ) তাঁর সন্তানদের প্রতি অসিয়্যত করে বলেন- “তোমরা মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ কর না।’ (বাকারাঃ ১২৩২)
ইসলাম পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। এতে কোন খুঁত নেই। এতে কোন অপূর্ণতা নেই।
আল্লাহ পাক বলেনঃ
اليوم اكملت لكم دينكم واتممت عليكم نعمتي ورضيت لكم الاسلام دينا
অর্থাৎ “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পূর্ণাঙ্গ করলাম ও তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন মনোনীত করলাম।” (মায়িদা : ৩)
আল্লাহ তা’আলা আরো এরশাদ করেন
ادخلوا في السلم كافة
তোমরা ইসলামের মধ্যে পরিপূর্ণভাবে প্রবেশ কর ( আল কুরআন)
উপরিউক্ত নানা কারণে মানুষের একমাত্র মুক্তির পথ হলো ইসলাম। ইসলামের মধ্য দিয়েই মানুষ নিজেকে চির শান্তির মধ্যে স্থাপন করতে পারে। মানুষের জীবনে ইসলামের কোন বিকল্প নেই। আল্লাহ কর্তৃক একমাত্র দ্বীন যেহেতু ইসলাম তাই সকলের উচিত ইসলামের মধ্যে জীবন যাপন করা।
ইসলাম মানুষের স্বভাবজাত বা প্রকৃতির দ্বীন-দ্বীনের ফিতরাত। আল্লাহ পাক মানুষকে যে সহজতা প্রকৃতি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, তাই হলো ফিতরাত।
হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে- “প্রতিটি শিশুই সহজাত প্রকৃতি তথা ইসলামের উপর জন্মগ্রহণ করে।”
এখানে ফিতরাত বা ইসলামের কথা উল্লেখ করে হিদায়াত গ্রহণের যোগ্যতার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। এ কারণেই প্রতিটি মানুষের মধ্যে উচ্চতর শক্তির সামনে আত্মসমর্পণের সহজতা প্রেরণা পরিলক্ষিত হয়। ভক্তি আপ্লুত হৃদয়ে সে নিজেকে একান- করে সঁপে দিয়ে পেতে চায় আত্মিক পরম তৃপ্তি। এ সুপ্ত প্রেরণা-জযবাকে বাস-বে রূপায়িত করতে গিয়ে কখনো কখনো মানুষ হয়েছে দিকভ্রান-। কেউ তো চন্দ্র-সূর্যকে মহাশক্তি মনে করে সেগুলোর কাছে মাথা নত করেছে। কেউবা আগুনের পূজা করেছে। আবার কেউ নিজের চাইতে অধিকতর শক্তিমান মানুষের পূজায় আত্মনিয়োগ করেছে। কখনো তারা নিজেদের কল্পিত দেব-দেবীর মূর্তী তৈরি করে সেগুলোর সামনে পতশীর হয়েছে। আবার কখনো অহংকারে স্ফীত হয়েছে নিজেকে প্রভু বলে ঘোষণা করেছে। এক কথায় মানবতার ক্রমবিকাশের সকল স্তরে এ সহজাত প্রেরণা মানুষের মধ্যে বিদ্যমান ছিল। পক্ষান্তরে মানুষের এ সহজাত প্রেরণার চাহিদা এটাই ছিল যে মানুষ এমন এক মহান ও শাশ্বত সত্তার সামনে নিজেকে উৎর্গিত করবে যিনি সকল শক্তি, সকল ক্ষমতা ও সৌন্দর্যের উৎস, মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধির সীমাবদ্ধতার উর্ধ্বে যাঁর অবস্থান, যিনি মানুষের সকল দাবী ও চাহিদা পূরণে এবং তাদের সহজাত প্রেরণা ও উচ্ছাসকে তৃপ্ত করতে সক্ষম। এই পূর্ণতম সত্তাই হলেন মহান রাব।
ঘোষণা করা হয়েছে-
“তুমি এক নিষ্ঠ হয়ে নিজেকে দ্বীনে প্রতিষ্ঠিত কর। আল্লাহর ফিতরাত তথা প্রকৃতির অনুসরণ করো, যে প্রকৃতি অনুযায়ী তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোন পরিবর্তন নেই এটাই সরল দ্বীন কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।” (রূম : ৩০)
কাজেই মানুষকে নেয়ামত দিয়েছেন মহান রব্বুল আলামীন। তাঁকে যে মানবে, তাঁকে যে অনুসরণ করবে, তাঁর প্রিয় হাবিব মুহাম্মদ (সঃ) কে যে অনুসরন করবেন সে ব্যাক্তিই কেবল একজন সঠিক পথের দিশা প্রাপ্ত। সেই মানুষটিই একজন প্রকৃত মুসলমান। আর তার জন্যই রয়েছে দুনিয়া ও আখেরাতের অনাবিল সুখ শান্তি।
লেখক
মুফতি শাহাদাত হোসাইন জাফরী
প্রিন্সিপাল,
মধুপুর জামিয়াতুল মারিফ আল ইসলামিয়া।
নোয়াখালী