ঈমানের পরিচয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি হাদিস শরিফে সহজভাবে তা বিবৃত হয়েছে—
বিখ্যাত সাহাবী হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, একবার হজরত জিবরাইল (সা.) মানুষের বেশে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে এসে জিজ্ঞাসা করলেন,
‘ইমান কী?
তিনি উত্তরে বলেন, আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর পুস্তকগুলো (আসমানি কিতাব), তাঁর সাক্ষাতে, তাঁর রাসুলদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা এবং শেষ দিবসে পুনরুত্থান ও তাকদিরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন (করার নাম ইমান)। (বুখারি,১ম খন্ড, হাদিস:৫০)
বিভিন্ন ইমামের কাছ থেকে পরিভাষাগতভাবে ইমানের বিভিন্ন আঙ্গিকের সংজ্ঞা পাওয়া যায়। তবে সেসব সংজ্ঞার মূল বক্তব্য কাছাকাছি।
১) ইমাম আবু হানিফা (র.) বলেন–, ‘ইমান হচ্ছে অন্তরের সত্যায়ন ও মুখের স্বীকৃতি।’
২)ইমাম শাফেয়ি ( রঃ) বলেন — ‘অন্তরের বিশ্বাস, মৌখিক স্বীকৃতি এবং আমলে বাস্তবায়ন করার নাম ইমান।’
(শারহুল ফিকহিল আকবর, মোল্লা আলী কারী, পৃষ্ঠা: ১৪১-১৫০)
পবিত্র কোরআনের একাধিক আয়াত (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৩৬, ১৭৭ ও ১৮৫; সুরা কামার, আয়াত: ৪৯; সুরা নিসা: ১৩৬) এবং হাদিসের (বুখারি, হাদিস: ১/৯৬-৯৭; মুসলিম, হাদিস: ১/১৫৭) ভিত্তিতে জানা যায় যে,
ছয়টি মৌলিক বিশ্বাসের সমষ্টির নাম ইমান।
বিষয় ছয়টি হলো: —
১. আল্লাহর প্রতি ইমান ,
২. ফেরেশতাদের প্রতি,
৩. নবী-রাসুলদের প্রতি,
৪. আল্লাহ প্রেরিত কিতাবগুলোর প্রতি,
৫. পরকাল, পুনরুত্থান বা শেষ দিবসের প্রতি এবং
৬. তাকদিরের (ভাগ্য) প্রতি ইমান (বিশ্বাস স্থাপন করা) আনা।
অনেক গবেষক শেষ দিবস বা কিয়ামত আর পুনরুত্থানকে আলাদাভাবে পেশ করেছেন।
সে হিসাবে, তাদের দৃষ্টিতে, ইমানের আরকান মোট সাতটি।
এই ৬ থেকে ৭টি বিষয়ের সব কটির ওপর যদি কেউ সমভাবে ইমান না আনে, তবে তাঁর ইমান পূর্ণাঙ্গ হবে না।
(কিবাতুল ঈমান, মেশকাত শরিফ১ম খন্ড )
নবী-রাসুলদেরটি ছাড়া ইমানের অন্য সব কয়টি রোকন অদৃশ্য। আর নবী-রাসুলগণকেও এই যুগে এখন আর চোখে দেখার কোনো সুযোগ নেই। সুতরাং ইমানের সার্বিক বিষয়াবলি গায়েব বা অদৃশ্য।
الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ وَيُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ
যারা গায়বের প্রতি ঈমান আনে, নামায কায়িম করে এবং আমি যে জীবনোপকরণ তাদেরকে দিয়েছি তা থেকে তারা ব্যয় করে। (সুরা বাকারা, আয়াত: ৩)